সড়কে মানুষের সঙ্গে যানবাহনও বেড়েছে, চেকপোস্টে জটলা

32

টানা চারদিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর আজ পঞ্চম দিনে খুলেছে ব্যাংক-বীমা ও শেয়ারবাজারসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সেকারণে রাজধানীর সড়কে সকাল থেকে বেড়েছে যানবাহন ও মানুষের সংখ্যা। কোনো কোনো চেকপোস্টে যানবাহনের জটলাও দেখা গেছে।

এদিকে, করোনার সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছেন পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা। বিধিনিষেধের শুরু থেকেই বিভিন্ন জায়গায় টহল দিতে দেখা গেছে তাদের। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্টে চালানো হচ্ছে তল্লাশি।

সোমবার (৫ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর বাসাবো, খিলগাও, মালিবাগ,মগবাজার, কাকরাইল,শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, মতিঝিল, ধানমন্ডি, কলেজ গেট ও  বাড্ডাতে দেখা যায়, মানুষের চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বিভিন্ন যানবাহনের চাপ। ব্যক্তিগত গাড়ি বেশি বের হওয়ায় চেকপোস্টে জট লেগে আছে।

jagonews24

গত চারদিনে রাজধানীর কোনো সিগন্যালেই অপেক্ষা করতে না হলেও আজ পঞ্চমদিনে প্রতিটি সিগন্যালেই ৪-৫ মিনিট করে যানবাহনগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কোনো সিগন্যালে প্রায় ১০ মিনিটের মতো অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শাহবাগ সিগন্যালে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আজ সকাল থেকে রাস্তায় মানুষের যে চাপ তা দেখে মনেই হবে না দেশে কঠোর লকডাউন চলছে। যারা বের হয়েছেন তারা হয়তো জরুরি প্রয়োজনেই বের হয়েছেন, তবে একসঙ্গে এত মানুষের চাপ প্রতিটি রাস্তায় হলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবে। মানুষের চলাচল যেমন বেড়েছে তেমন ব্যক্তিগত যানবাহনসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বেড়েছে। যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সবাইকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। একটি সিগন্যালে ১০ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হবে। তবে আমরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। অপ্রয়োজনে বের হওয়া গাড়িগুলোকে মামলাও দেয়া হচ্ছে। ’

মালিবাগ মোড়ে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, ‘আজ থেকে ব্যাংক-বীমা ও শেযারবাজার খুলেছে। তাই মানুষের চাপ আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবেই বেশি। বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অফিসের গাড়িও। তবে যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন তাদের প্রায় সবাই মাস্ক পরছেন। আগের তুলনায় স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা বেড়েছে। আর যারা বিনা কারণে বের হচ্ছেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

রাস্তায় যানবাহনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশকে সক্রিয় অবস্থায় দেখা গেছে। সবুজবাগ বাসাবোয় টহলরত পুলিশরাও বলছেন, ‘ এখন আর মানুষের মধ্যে লকডাউন ভাঙার মানসিকতা নেই। যারা বাইরে বের হচ্ছেন, তারা কোন না কোন জরুরি কাজ বা সেবায় নিয়োজিত।’

jagonews24

বিধিনিষেধের শুরুতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অযৌক্তিক কারণে বাইরে বের হওয়ায় রাজধানীতে প্রথমদিন ৫৫০ এবং দ্বিতীয় দিন ৩২০ জন, তৃতীয় দিনে ৬২১ জনকে এবং চতুর্থ দিনে ৬১৮ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সম্প্রতি করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় সর্বাত্মক কঠোর লকডাউনের নির্দেশনা জারি করে সরকার। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হলে মাস্ক পরে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরার কথাও বলা হয় নির্দেশনায়। তা ছাড়া চলমান বিধিনিষেধে বন্ধ আছে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সব অফিস। ৭ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই কঠোর বিধিনিষেধ।

চতুর্থদিনে ঢাকায় গ্রেফতার ৬১৮, জরিমানা প্রায় ১৩ লাখ : কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থদিনে বিধিনিষেধ অমান্য করে বাইরে বের হওয়ায় রাজধানীতে আরও ৬১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ১৬১ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। এ ছাড়া ট্রাফিক বিভাগ ৪৯৬টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করেছে। জরিমানার পরিমাণ ১২ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

jagonews24

এর আগে শনিবার (৩ জুলাই) বিধিনিষেধের তৃতীয়দিন জরুরি কারণ ছাড়া বাইরে বের হওয়ায় রাজধানীতে ৬২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওইদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছিল ৩৪৬ জনকে। লকডাউনের দ্বিতীয়দিন ট্রাফিক আইন অমান্য করা ও গাড়ি নিয়ে বিনা কারণে বাইরে বের হওয়ায় জরিমানা করা হয়েছিল ১৯ লাখ ২২ হাজার ৫৫০ টাকা।

র‌্যাবের অভিযানে সারাদেশে ৪৩৮ জনকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা : চতুর্থদিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় সারাদেশে ৪৩৮ জনকে চার লাখ টাকার বেশি জরিমানা করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ৫৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ অর্থদণ্ড করেন। সারাদেশে র‌্যাবের ১৮৭টি টহল ও ২১১টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। বিনা প্রয়োজনে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে র‌্যাবের জনসচেতনামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও স্বাস্থ্যবিধি চলতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। বিধিনিষেধ অমান্য করায় দেশব্যাপী পরিচালিত ৫৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪৩৮ জনকে ২ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।